
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মোঃ মহিবুল্লাহ আকন যোগদানের পর ভূমি সেবার কার্যক্রমে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো, দীর্ঘদিনের ফাইল জট নিরসন, দ্রুত নামজারি নিষ্পত্তি এবং অফিসে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১৮ জুলাই আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ মহিবুল্লাহ আকন। যোগদানের পর থেকেই তিনি ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত আশুলিয়ায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বসতি বিস্তারের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আসেন। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, জমির রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন নেতৃত্বে এসব সমস্যা কমিয়ে সেবার গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি ও অন্যান্য ভূমি সেবা সম্পন্ন করা, সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং অফিসের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দালালনির্ভরতা কমিয়ে নাগরিকদের সরাসরি সরকারি সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি এবং নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহিবুল্লাহ আকন বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনগণই রাষ্ট্রের একমাত্র মালিক। আমরা জনগণের সেবক মাত্র। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া নাগরিকরা যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা পান, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলকে একটি সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবার ক্ষেত্রে মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি সেবা সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই প্রধান উদ্দেশ্য। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে সেবার গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে। ধারাবাহিকভাবে নেওয়া উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল একটি আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


