রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
Headline
Wellcome to our website...
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন আব্দুস সালাম : রুহুল কবির রিজভী
/ ২৪ : টাইম ভিউ
আপডেট : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাংবাদিক আব্দুস সালামের জীবন ও সংগ্রাম স্বাধীনচেতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, আব্দুস সালামের মতো সাংবাদিক শুধু বাংলাদেশে নয়, আজকের পুরো বিশ্বেই প্রয়োজন। সত্য ও মিথ্যার মধ্যে বিভাজনরেখা টানতে এবং নাগরিক স্বাধীনতা ও স্বাধীনচেতা মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে তার মতো মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। রোববার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পিআইবির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সাংবাদিক আব্দুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে সাংবাদিক আব্দুস সালাম স্মৃতি সংসদ।
আব্দুস সালামের একাডেমিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, একজন মুসলমান বাঙালি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করে ইংরেজি সাহিত্যে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও তা ছেড়ে সাংবাদিকতায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সাংবাদিক আব্দুস সালামের সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনসংগ্রামের তুলনা করে বলেন, নজরুল কবি হিসেবে বেশি পরিচিত হলেও সাংবাদিকতাও করেছেন। আব্দুস সালামও সাংবাদিক ছিলেন। দুজনই জেল খেটেছেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং লেখনীর মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ ও কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।রুহুল কবির রিজভী ভাষা আন্দোলনে আব্দুস সালামের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের এক সপ্তাহ আগে তিনি ভাষার পক্ষে একটি কলাম লিখেছিলেন। এ কারণে তাকে ধর্মবিরোধী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, আইয়ুব খানের ফ্রেন্ড নট মাস্টার বইয়ের কঠোর সমালোচনা করে আব্দুস সালাম ‘অবজারভার’-এ একটি লেখা প্রকাশ করলে পরদিন পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাকে আবারও কারাবরণ করতে হয়। মৃদু গণতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ কিংবা সামরিক শাসন-সব সময়েই তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আব্দুস সালাম শুধু ডেস্কে বসে লেখালেখি করা সাংবাদিক ছিলেন না; সমাজ ও রাষ্ট্র সংকটে পড়লে তিনি একজন বিবেকবান ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, বারবার আঘাত এলেও আব্দুস সালাম তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত হননি। স্বাধীনচেতা মন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানসহ দুই পাকিস্তানের এডিটরস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।তিনি বলেন, সাংবাদিকতাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতাকে পেশার মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন আব্দুস সালাম। কোনো অর্থ, হুমকি কিংবা ক্ষমতার কাছে তিনি মাথা নত করেননি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের সমালোচনা গ্রহণ করা উচিত এবং মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অত্যন্ত উদার।তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ভবিষ্যতে আবারও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চাইলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করে কোনো লাভ নেই। বরং সরকারকে সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে এবং গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই আলোকবর্তিকার মতো কিছু মহাপুরুষের জন্ম হয়, যারা বাতিঘর হিসেবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রকে আলোকিত করেন। সাংবাদিক আব্দুস সালাম তেমনই একজন, যিনি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর জন্মদাতা।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে কোনো রাষ্ট্রই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। সাংবাদিকদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দেশপ্রেম, সাহস ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি বলেন, সাংবাদিক আব্দুস সালাম সাহস, দেশপ্রেম ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বর্তমান ও তরুণ সাংবাদিকদের অনুসরণ করা উচিত।পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিপিডির সমন্বয়ক ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু এবং সাংবাদিক আব্দুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজে লাইক করুন