
মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্টাফ রিপোর্টার :
নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ‘ক্যাশলেস সেগুনবাগিচা’ কর্মসূচি। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্যাশলেস লেনদেন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং কর্পোরেট শাখা, পল্টনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং উইং, প্রধান কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংকিং কর্পোরেট শাখা, পল্টনের জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব শাখা মোঃ জাহিদ হোসেন, কর্পোরেট ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হুমায়ুন কবির, এডিসি ডিভিশনের এজিএম সাইদ আহমেদ এবং জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং কর্পোরেট শাখা, পল্টনের এডিসি মোঃ আব্দুল্লাহ মামুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল লেনদেন আধুনিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে লেনদেনের পাশাপাশি আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পূবালী ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ক্যাশলেস সেগুনবাগিচা’ কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার ব্যবসায়ী, গ্রাহক ও সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হবে। নগদ অর্থ ব্যবহারের ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ ও দ্রুত লেনদেনের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় পূবালী ব্যাংক সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।
বিশেষ অতিথি মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন, গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পূবালী ব্যাংক আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা চালু ও সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের পরিবেশ তৈরি করা ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য।
মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন শুধু সময় সাশ্রয় করে না, এটি আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসার জরুরি। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
এজিএম সাইদ আহমেদ বলেন, পূবালী ব্যাংকের ডিজিটাল ও ইসলামী ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সহজ ও নিরাপদ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্রাহকদের আধুনিক ও যুগোপযোগী সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
কর্মসূচির আয়োজক মোঃ আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, ‘ক্যাশলেস সেগুনবাগিচা’ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করা এবং নগদ অর্থের পরিবর্তে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করাই মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্যোগ সফল করতে তিনি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে ক্যাশলেস লেনদেনের গুরুত্বও বাড়ছে। নিরাপদ ও দ্রুত লেনদেনের অভ্যাস গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস সেগুনবাগিচা’ কর্মসূচি সেগুনবাগিচা এলাকায় ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ক্যাশলেস ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণে অনুপ্রেরণা জোগাবে। নগদ অর্থনির্ভরতা কমিয়ে একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


