
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ভূমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচিত মো. গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার গতিবিধি নজরদারিতে রাখে পুলিশ। পরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ নানা কর্মকাণ্ডে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের আরও দাবি, কিশোরদের একটি অংশকে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতো।
সম্প্রতি এক প্রবাসীর মালিকানাধীন বাড়ি ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র ব্যবহারের চেষ্টা এবং লোকজন জড়ো করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে আসে। ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে নানা কর্মকাণ্ডে কিশোরদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হতো। তাদের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে গিয়াস উদ্দিনের গ্রেফতারে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাব-ইন্সপেক্টর শাহাদাত হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। গ্রেফতারের পর তাকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ভূমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, কিশোর গ্যাংয়ের ব্যবহার এবং অপরাধী চক্রের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশের এই অভিযানকে মোহাম্মদপুরে অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


