
বিশেষ প্রতিনিধি : ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে পারিবারিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আলতাব হাওলাদারের ছেলে জুলহাসের বিরুদ্ধে নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে জখম করার অভিযোগ উঠে। বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে জুলহাস পূর্বশত্রুতার জের দেখিয়ে একই এলাকার আহম্মেদ আলী ফকিরসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নলছিটি আমলী আদালত-এ দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৪৬১। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আহম্মেদ আলী ফকির অভিযোগ করে বলেন, ৯ ডিসেম্বর জুলহাস নিজেই তার স্ত্রী ও সন্তানকে জখম করেছে। অথচ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তার বড় ছেলে রাকিব ফকির এর আগেও জুলহাস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, জখম, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে নলছিটি থানা-য় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে মামলাটি আমলে নেয়, যার মামলা নম্বর ২১০ জি/আর (নলছিটি)। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে জুলহাস ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে পুনরায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আহম্মেদ আলী ফকির আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের মামলা তুলে নিতে জুলহাস ও তার লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।” এ ঘটনায় তার বড় ছেলে নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১১৬২, তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলহাস এর আগেও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন এবং ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন, যার কারণে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলহাসের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


