
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫, বি-১ বাংলাদেশের দুটি ক্লাব—লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ধলেশ্বরী ও লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট ইমিনেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে ফেনী জেলার ১নং শশদী ইউনিয়নের সরিষাদি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ চক্ষু শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫, বি-১ বাংলাদেশের জেলা গভর্নর লায়ন খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শাহজাহান, এমজেএফ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫, বি-১ বাংলাদেশের নিও ভয়েস চেয়ারপারসন লায়ন নূরে জান্নাত রুমা, জোন চেয়ারপারসন লায়ন হেলাল উদ্দিন, জোন চেয়ারপারসন লায়ন মির হোসেন রাসেল, পাবলিক রিলেশন চেয়ারপারসন লায়ন আশফাক আহম্মেদ চৌধুরীসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও লায়ন্স নেতৃবৃন্দ।
চক্ষু শিবিরে ঢাকার লায়ন্স হাসপাতাল থেকে আগত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে প্রায় ৫০০ রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা প্রদান করা হয়। এছাড়া চোখের ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে—এমন প্রায় ৫০ জন রোগীকে অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা গভর্নর লায়ন খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শাহজাহান, এমজেএফ বলেন, “লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল মানবসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
লায়ন মির হোসেন রাসেল বলেন, “চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। অর্থের অভাবে অনেক মানুষ চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই চক্ষু শিবিরের আয়োজন। ভবিষ্যতেও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
পাবলিক রিলেশন চেয়ারপারসন লায়ন আশফাক আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, “লায়ন্স ক্লাবের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের সেবা করা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আজকের শিবিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেবা পেয়েছেন—এটাই আমাদের আয়োজনের সফলতা।”
আয়োজকরা জানান, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫, বি-১ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চক্ষু শিবিরটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লায়ন মির হোসেন রাসেল ও লায়ন আশফাক আহম্মেদ চৌধুরী। স্থানীয় লায়ন্স নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ মানবিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।


