বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন [gtranslate]
Headline
Wellcome to our website...
পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন
/ ৩২ : টাইম ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

ডেক্স রিপোর্ট : বিশ্বকাপ মানে নানা ঘটনার খেলা। গাড়ি ধারাবাহিকতায় ব্রাজিলের পর এবার বিদায় হল পর্তুগাল। ফুটবল বিশ্বকাপ
পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেন থেমে গেল ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা। ঢিমেতালো এগোনো লড়াইয়ে আচমকা এক ঝলকে ভেঙে পড়ল পর্তুগালের রক্ষণ। বদলি নেমে দলকে পথ দেখালেন মিকেল মেরিনো। তার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল স্পেন। ডালাসে সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দুই দলের কাউকেই কখনও সেভাবে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। মাঝের বিরতির পর খেলার গতি কমে আসে আরও। সময় গড়ানোর সঙ্গে দুই পক্ষই যেন আরও বেশি সতর্ক হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই একটা সেটপিস পেয়ে ব্যবধান গড়ে দেন মেরিনো। প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। পর্তুগালের ১০ শটের কেবল দুটিই ছিল লক্ষ্যে। এরই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল পাঁচবারের ব্যালন দ’র জয়ী, রেকর্ড ছয় বিশ্বকাপের গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। ক্লাব ফুটবলে অফুরন্ত সাফল্য পাওয়া এই মহাতারকা জাতীয় দলের হয়ে একবার জিতেছেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কিন্তু এই সোনালী ট্রফির স্বাদ আর পাওয়া হলো না তার। শেষ বত্রিশে দুটিসহ চলতি আসরে মোট চারটি গোল করা মিকেল ওইয়ারসাবাল নবম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার নিশ্চিত সুযোগ পান। তবে, দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন রেয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড। চার মিনিট পর, পেদ্রির থেকে বল কেড়ে নিয়ে ব্রুনো ফের্নান্দস বাড়ান রোনালদোকে। ডি-বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে পর্তুগাল অধিনায়কের নেওয়া জোরাল শট কর্নারের বিনিময়ে আটকান উনাই সিমন। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে-পরে বেশ কিছুক্ষণ আক্রমণে চাপ ধরে রাখে স্পেন। যদিও দিয়োগো কস্তাকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না তারা। ৩৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়ায় পর্তুগাল। ডান দিক থেকে নেতোর দূরের পোস্টে বাড়ানো ক্রসে হেড করেন জোয়াও ফেলিক্স। বল গোলরক্ষকের কাঁধে লেগে ছয় গজ বক্সের মুখে চলে যায়, কোনোমতে ভলি করার চেষ্টা করেন রোনালদো, বলে ছিল না গতি, ছুটে এসে গ্লাভসে নেন সিমন।
৪১তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পর্তুগাল। ডান দিক থেকে নুনো মেন্দসের জোরাল শটে বল পেদ্রো পররোর মাথায় লেগে, ক্রসবারে প্রতিহত হলে বেঁচে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের আক্রমণেই ধার আরও কমে আসে। এই অর্ধের প্রথম ২৫ মিনিটের একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘটনা পর্তুগালের জন্য হয়ে আসে বড় ধাক্কা; চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শুরু থেকে দারুণভাবে রক্ষণ সামলানো নুনো মেন্দস।
দ্বিতীয় পানি পানের বিরতির পরপরই, ডেডলক ভাঙার একটা সুযোগ আসে পর্তুগালের সামনে, তবে ফের্নান্দেসের শটটা পাশের জাল কাঁপায়। খানিক পর দানি ওলমোর জোরাল শট স্লাইড করে আটকে দেন হুভেন নেভ্স। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দারুণভাবে রক্ষণ সামলানো পর্তুগাল যোগ করা সময় শুরু হতেই এলোমেলো হয়ে যায়। ডি-বক্সের অনেকটাই বাইরে ফ্রি কিক পায় স্পেন। ছোট করে নেওয়া ফ্রি কিকের পর, সতীর্থদের পা ঘুরে বল পেয়ে, দারুণ এক রক্ষণচেরা থ্রু বল বাড়ান ফেররান তরেস আর ছুটে গিয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান গড়ে দেন ওলমোর বদলি নামা মেরিনো। ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের অন্তিম মুহূর্তে ভালো পজিশনে বল পেয়ে হেড করেন বের্নার্দো সিলভা, বল ক্রসবারে ঘেঁষে গিয়ে পড়ে উপরের জালে। একটু পরেই বাজে শেষের বাঁশি। শুরু হয় স্পেনের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার উদযাপন, আর অন্যপাশে আরেকবার ব্যর্থতার গল্প লিখে হতাশায় নুইয়ে পড়ে পর্তুগিজ শিবির। ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে রোনালদোর অশ্রুসিক্ত চোখ, বারবার চেষ্টা করেও না পাওয়ার বেদনা নিয়ে শেষ হলো তার বিশ্বকাপ অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজে লাইক করুন