বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন [gtranslate]
Headline
Wellcome to our website...
টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ের ইতিহাস
/ ২১ : টাইম ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন

ডেক্স রিপোর্ট : বিশ্বকাপ মানে নানাবিধ ঘটনা অঘটন এবং নাটকের জন্ম দেয়। অনেক আশা ভরসা কে শূন্যতে নামিয়ে আনে। আর বিশ্বকাপ যতই এগোবে সামনের দিকে ততই বাড়বে উত্তেজনা এবং নানাবিধ ঘটনা রেকর্ড আর রেকর্ড। তারই ধারাবাহিকতায় প্যারাগুয়ের কাছে টাই ব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায় নিয়েছে তারকা সমৃদ্ধ জার্মানি। শুনতেও কিছুটা অভাব অবাক লাগছে। তবুও এটাই বাস্তব।ফক্সবোরোর শেষ ৩২’র ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র ছিল। এর মাধ্যমে এই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুট আউটে হেরে জার্মানি বিদায় নিল।
জুলিও এনসিজো বিরতির আগে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। কেই হাভার্টজের গোলে ৫৪ মিনিটে সমতায় ফিরে জার্মানি। এবারের টুর্নামেন্টে এটি হাভার্টজের তৃতীয় গোল। অতিরিক্ত সময়ে ভিএরআর রিভিউ জোনাথন টাহর একটি গোল বাতিল করে দেয়। টাই ব্রেকারে আত্মবিশ্বাসী প্যারাগুয়ের সামনে আর পেরে উঠেনি জার্মানরা।
প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরলান্ডো গিল হাভার্টজ ও নিক ওল্টেমেডের গোল রুখে দেন। কিন্তু তার সতীর্থরা দুইবার জয়ের সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করেন। টাহর শট বারের উপর দিয়ে চলে জেলে হোসে ক্যানালে উইনিং স্পট কিক থেকে আর কোন ভুল করেননি। ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলতে আসা জার্মানির জন্য আরও একটি হতাশার বিশ্বকাপ শেষ হলো। অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বড় জয় নিয়ে ইতিহাস রচনা করা প্যারাগুয়ের উদ্‌যাপনের মাত্রা ছিল স্বাভাবিক ভাবেই চোখে পড়ার মত। উচ্ছ্বসিত গোলরক্ষক গিল বলেন, ‘আমরা ম্যাচটিকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। প্রথম গোল করে আমরা এগিয়ে যাই। কিন্তু এরপর নিজেদের প্রতিরোধ করতে সমর্থ হই। পেনাল্টি নেবার আগে আমরা প্রত্যেকের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছি। দুটি পেনাল্টি রক্ষা করতে পারায় ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। এটা আমাদের জন্য সত্যিই বিশেষ কিছু। আমরা সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানদের বিদায় করেছি। এই জয় সকল প্যারাগুইয়ানদের জন্য উৎসর্গ করলাম। জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগলেসম্যান এই প্রথমবারের মত ডেনিজ উনডাভকে একাদশে নামিয়েছিলেন। স্টুটগার্টের এই স্ট্রাইকার প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিন গোল করেছিলেন। জামাল মুসিয়ালার পরিবর্তে তিনি মাঠে নামেন। অন্যদিকে লেফট-ব্যাকে ফিরেছিলেন ন্যাথানিয়েল ব্রাউন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে সামান্য ইনজুরির কারণে তিনি খেলতে পারেননি। মিগুয়েল আলমিরন এক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্যারাগুয়ে দলে ফিরেছিলেন। ফিফার নতুন আইনানুযায়ী মাঠের মধ্যে মুখ বন্ধ করে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আলমিরন লাল কার্ড দেখেছিলেন। প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো তার খেলোয়াড়দের জীবনের অন্যতম বড় এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ম্যাচ শুরুর প্রথম মিনিটেই তারা এগিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিল। কর্নার থেকে জুনিয়র আলোনসো বল পেয়েও ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করতে পারেননি। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিশাল জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা জার্মানি কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি। উনডাভের একটি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কোনোভাবেই প্যারাগুয়েল সমন্বিত রক্ষণভাগকে তারা ভাঙতে পারছিলনা। বিরতির আগে জার্মান কিছুটা ছন্দহীন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে এনসিজো প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। কর্ণার থেকে নয়্যার বল ক্লিয়ার করলেও ডানদিক থেকে মাটিয়াস গালারজার ক্রসে একেবারেই ফাঁকায় থাকা এনসিজো বল জালে জড়ান।
বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে প্যারাগুয়ের এটাই প্রথম গোল। এর আগে পাঁচবারের প্রচেষ্টায় তারা একবারও গোল করতে পারেনি। বিরতির পর লিও গোয়েতজাকে মাঠে নামান নাগলেসম্যান। ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান রিটজের ক্রসে হাভার্টজ গোল করে জার্মান শিবিরে স্বস্তি ফেরান। কিছুক্ষণ পর রিটজের আরও একটি ক্রস থেকে হাভার্টচের জেড গিল রুখে দিে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
১০২ মিনিটে ন্যাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে টাহ বল জালে জড়ালেও ভিএআর ফাউলের কারণে তা বাতিল করে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজে লাইক করুন