নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কলকাতায় রাজভবন অভিযান করেছে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ধর্মতলার প্যারাডাইস সিনেমা হলের সামনে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে রাজভবনের দিকে এগিয়ে যান তারা। মিছিলে কয়েকশো কংগ্রেস কর্মী অংশ নেন। সুমন রায়চৌধুরীসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন।
মিছিল থেকে কংগ্রেস কর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। নারী কংগ্রেস কর্মীদের অনেকের হাতে জ্ঞানেশ কুমারের ছবি ও পোস্টার দেখা যায় এবং তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে রাজভবনের দিকে এগিয়ে যান।
মিছিল রাজভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় নারী কর্মীদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে আসা কর্মীদের যেভাবে আটক করা হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা নারী কর্মীদের আটকের ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান। তবে এসব অভিযোগ কংগ্রেস কর্মীদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি হিসেবে উঠে আসে; নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পৃথকভাবে বিবেচ্য।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস কর্মীরা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তারা দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিতে পারে।
কংগ্রেস নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরেও ভোটকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এদিকে কংগ্রেস কর্মীরা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গণতন্ত্রের স্বার্থে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জনগণের ভোটাধিকার ও আস্থা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই দাবিতেই তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।