আওরঙ্গজেব কামাল : দেশে তেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবার। হয়েছে সিন্ডিকেটের অভিযোগ। এছাড়া দেশে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে চরম দুর্ভোগ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার রয়েছে চরম বিপাকে। যদিও এসব বিষয় থেকে সরকার উদ্ধারের চেষ্টা করছে। দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘদিনের একক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন রাখা, সংকটকালে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা তৈরি এবং বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সীমিত পরিসরে জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ব্যবসায় যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ জন্য ‘Private-Sector Refined Fuel Import, Storage, Transportation, Distribution and Marketing Policy, 2026’ ধরনের একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি ব্যবসায় দীর্ঘদিনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।তবে সরকার এখনো কোনো নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। আগস্টে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংকটকালে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নীতিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।বিপিসির একক নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের উদ্যোগবর্তমানে দেশের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ও বাজারজাতকরণের বড় অংশ বিপিসির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের আমদানিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ভূমিকা রয়েছে।সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয় এবং প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। ২০২৬ সালের মধ্যে বিপিসি বড় অঙ্কের জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিম্ন সালফার ডিজেল আমদানির পাশাপাশি আবুধাবি ও সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে। সেটা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছিল তা অবশ্যই আপনাদের অজানা নাই। ফলে জ্বালানি তেলের আমদানি ও সরবরাহে বিপিসির ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এই নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। কেন বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু জ্বালানি আমদানি নয়—সংরক্ষণাগার, টার্মিনাল, পাইপলাইন, পরিবহন ও বিতরণব্যবস্থায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশের সামগ্রিক মজুত সক্ষমতা বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কনডেনসেট ও ন্যাফথা ব্যবহার করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি খুচরা বাজারে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারে না; উৎপাদিত পণ্য বিপিসির কাছে বিক্রি করতে হয়। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগকারীরাও জ্বালানি খাতে আসতে পারেন। এতে নতুন সংরক্ষণাগার, ডিপো, পরিবহনব্যবস্থা ও সরবরাহ অবকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।সংকটকালীন সরবরাহে বাড়তে পারে সক্ষমতা। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক নৌপথে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে জাহাজ আসতে বিলম্ব হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি মজুতেও চাপ তৈরি হয়। কয়েকটি ডিজেল চালান সময়মতো না পৌঁছানোয় মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ওই সময়ে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় ৯৩ শতাংশ এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানিতে ব্যয় ৮৪ শতাংশ বেড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি দেখিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে শুধু আমদানির পরিমাণ নয়, বিকল্প উৎস, পর্যাপ্ত মজুত এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ সরবরাহ অবকাঠামো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিপিসির ভেতরেও আপত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিপিসির একটি প্যানেল সরাসরি বেসরকারি আমদানি ও বাজারজাতকরণের ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বসুন্ধরা গ্রুপ জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করার পর সরকার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করেছে যে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নীতিমালা করা হচ্ছে না। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের বিষয়টি বৃহত্তর নীতিগত কাঠামোর মধ্যেই বিবেচনা করা হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন, বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়া হলেও তা হতে হবে লাইসেন্স, আমদানির পরিমাণ, মজুত সক্ষমতা, মান নিয়ন্ত্রণ, কর ও শুল্ক, পরিবহন এবং খুচরা বাজারজাতকরণের সুস্পষ্ট শর্তের আওতায়। মূল্য নির্ধারণে আসতে পারে নতুন কাঠামো জ্বালানি বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছে, আমদানি ও বাজারজাতকরণে একাধিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে আরও স্বচ্ছ ও স্বাধীন কাঠামো প্রয়োজন হবে। তাদের মতে, বিপিসির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসিকে মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে মূল্য পুরোপুরি বাজারনির্ভর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি দেশের ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। আবার সরকারি নিয়ন্ত্রণ অতিরিক্ত কঠোর হলে প্রতিযোগিতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হতে পারে। তাই মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্য রক্ষা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।বাংলাদেশের এলপিজি খাত বেসরকারি বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বর্তমানে দেশের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজি আমদানির তথ্যও বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসেছে। জ্বালানি তেলের বাজারেও যদি একইভাবে প্রতিযোগিতা তৈরি করা যায়, তাহলে সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে এলপিজি ও তরল জ্বালানি তেলের বাজারের কাঠামো এক নয়—তাই এলপিজির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিলেও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রয়োজন হবে।জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় একটি দুর্বলতা হচ্ছে আমদানিনির্ভরতা। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশবিষয়ক এক বক্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, নৌপথে সংকট কিংবা সরবরাহ বিঘ্নের সরাসরি প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার মূল লক্ষ্য শুধু বাজারে নতুন ব্যবসায়ী তৈরি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট হবে না। বরং এর সঙ্গে জাতীয় জ্বালানি মজুত বাড়ানো, বিকল্প সরবরাহ উৎস তৈরি, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।জ্বালানি তেলের বাজারে একাধিক প্রতিষ্ঠান এলে প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরবরাহব্যবস্থা আরও গতিশীল হতে পারে, অনিয়ম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়তে পারে।তবে প্রতিযোগিতার নামে যদি কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফলের পরিবর্তে নতুন ধরনের বাজার আধিপত্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে। ফলে সরকারকে একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা আইন, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের মান, মজুত, পরিবহন নিরাপত্তা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নীতিমালা কার্যকর হলে শুধু আমদানিকারক নয়, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, ডিপো, টার্মিনাল, পরিবহন, পাইপলাইন এবং খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন বিনিয়োগ আসতে পারে। দেশের বেসরকারি খাতের যেসব প্রতিষ্ঠানের আগে থেকেই টার্মিনাল, স্টোরেজ ও পরিবহন অবকাঠামো রয়েছে, সেগুলোকে জাতীয় জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে নতুন করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজনও কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে সংকটকালে সরকারি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। তবে সামনে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূণ।জ্বালানি তেলের বাজার আংশিক উন্মুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—কোন প্রতিষ্ঠান আমদানির অনুমতি পাবে, সর্বোচ্চ কত পরিমাণ আমদানি করতে পারবে, কী ধরনের মজুত সক্ষমতা থাকতে হবে, পণ্যের মান কে পরীক্ষা করবে, খুচরা পর্যায়ে মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং বাজারে কারসাজি হলে শাস্তির বিধান কী হবে।একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিপিসির ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিপিসিকে পুরোপুরি বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে কৌশলগত মজুত, জরুরি আমদানি, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।উন্মুক্ত বাজার, তবে নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে শক্ত হাতেসবদিক বিবেচনায় জ্বালানি তেলের বাজারে সীমিত পরিসরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে, অবকাঠামো শক্তিশালী হবে এবং সংকটকালে বিকল্প সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।তবে জ্বালানি তেল সাধারণ কোনো পণ্য নয়; এটি দেশের শিল্প, কৃষি, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে বাজার উন্মুক্ত করার প্রতিটি পদক্ষেপকে জাতীয় স্বার্থ ও ভোক্তার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিতে হবে।বিশেষজ্ঞ ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি নিয়ন্ত্রণের জায়গায় স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো, একচেটিয়া ব্যবস্থার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি তেলের বাজারে এই পরিবর্তন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। অর্থাৎ, লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙা নয়—বরং এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি বাজার তৈরি করা, যেখানে সরবরাহ থাকবে নিরবচ্ছিন্ন, মূল্য হবে যৌক্তিক, ব্যবসায় থাকবে প্রতিযোগিতা এবং সর্বোপরি সুরক্ষিত থাকবে ভোক্তার স্বার্থ ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা।
হোক ও গবেষক :
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি: ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব