ডেস্ক রিপোর্ট : গোল মিসের পসরা সাজিয়ে বসেছিলো কানাডা এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। টরন্টো স্টেডিয়ামে (বিএমও ফিল্ড) ইউরোপিয়ান দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলতে নেমে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়লো স্বাগতিক কানাডা।প্রথমার্ধে গোল করে এগিয়ে যায় বসনিয়া। আক্রমণের পর আক্রমণ তৈরি করছিল কানাডা। উল্টো কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে হেডে গোল করে এগিয়ে যায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রধামার্ধ শেষ করে তারা।তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে এসে সমতায় ফেরে কানাডা। ৭৮তম মিনিটে সিলে লারিন দারুণ এক শটে বল জড়ান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জালে। এর মাত্র ২ মিনিট আগে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। স্বাগতিক হিসেবে কানাডা বেশ এগিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটায় স্বপ্নের শুরু করতে পারেনি স্বাগতিক তারা। তবে হারও মানেনি জেসি মার্শের দল। পিছিয়ে পড়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত কানাডাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত, যখন বদলি হিসেবে নামা সিলে লারিন সমতাসূচক গোল করে গ্যালারিতে উল্লাসের বিস্ফোরণ ঘটান।কানাডার জন্য এই ড্র’ও অনেক বড়। কারণ, নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে অংশ নেয়া দুই আসরে কোনো ম্যাচ জয় তো দুরে থাক, ড্রও করতে পারেনি। যার ফলে আগে খেলা ৬ ম্যাচে কোনো পয়েন্টও অর্জন করতে পারেনি তারা। এবারই প্রথম কোনো পয়েন্ট অর্জন করলো। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাও অনেক বড়। যারা বাছাই পর্বে ইতালির মত দলকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়ে উত্তর আমেরিকার টিকিট কেটেছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই কানাডা ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। তৃতীয় মিনিটেই লিয়াম মিলারের লম্বা থ্রো থেকে লুক ডি ফুগেরোলেসের নিচু ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে কর্নার হলে ম্যাচের প্রথম আক্রমণাত্মক বার্তা দেয় স্বাগতিকরা। যদিও কর্নার থেকে বিশেষ কিছু করতে পারেনি তারা। উল্টো পাল্টা আক্রমণে বসনিয়ার আমার মেমিচ বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও তা বার উড়িয়ে যায়।প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল কানাডা। ইসমাইল কোনোয়ের চমৎকার থ্রু পাসে তানি ওলুওয়াসেই একাধিকবার সুযোগ তৈরি করেন। জোনাথন ডেভিডও গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজকে পরীক্ষায় ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কানাডার আক্রমণগুলো শেষ পর্যন্ত নিখুঁত সমাপ্তি পায়নি।এরই মধ্যে ১১ মিনিটে কানাডার ডিফেন্ডার অ্যালিস্টার জনস্টন মেমিচকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন।কানাডা যখন গোলের খোঁজে ব্যস্ত, তখনই ২১ মিনিটে সেট-পিস থেকে আঘাত হানে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এসমির বাজরাকতারেভিচের চাপে রিচি লারেয়া কর্নার দিতে বাধ্য হন। কর্নার থেকে মেমিচের ক্রস সিয়াদ কোলাসিনাচ মাথা ছুঁইয়ে বাড়িয়ে দেন, আর গোললাইন থেকে সহজ হেডে জোভো লুকিচ বল জালে জড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় টরন্টো স্টেডিয়ামের বড় একটি অংশ, যদিও গ্যালারিতে থাকা বসনিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি। 
গোল হজমের পর আরও মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। কর্নারের পর কর্নার আদায় করে নেয় তারা। ৩৩ মিনিটে ওলুওয়াসেইয়ের দারুণ সুযোগ ছিল সমতা ফেরানোর, কিন্তু বক্সের ডান দিক থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের ভলি অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ৪৫ মিনিটে জনস্টনের শট কোলাসিনাচ ব্লক করার পর কর্নার থেকে ডেরেক কর্নেলিয়াসের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়েই এগিয়ে থাকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।প্রথমার্ধে কানাডা ৮টি শট নিলেও মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। তাদের এক্সপেক্টেড গোল ছিল ০.৬৬, যেখানে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ছিল ০.৭৭। পরিসংখ্যান বলছিল ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও গোলের দিক থেকে এগিয়ে ছিল ইউরোপীয়রাই।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় কানাডা। ৪৮ মিনিটে ওলুওয়াসেইয়ের নিচু ক্রস গোলমুখে বিপদ তৈরি করে। ৫০ মিনিটে বক্সে গোলরক্ষক ভাসিলজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পেনাল্টির দাবি তোলে স্বাগতিকরা, কিন্তু রেফারি ফাকুন্ডো ফিগুয়েরোয়া তাতে সাড়া দেননি।৫৪ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত তৈরি হয়। দারুণ এক আক্রমণে স্টিফেন ইউস্তাকিওর পাস থেকে লারেয়া প্রায় নিশ্চিত গোল করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সিয়াদ কোলাসিনাচ অসাধারণ ডিফেন্স করে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বিপদমুক্ত করেন। চার মিনিট পর বসনিয়ার এরমেদিন ডেমিরোভিচ একক সুযোগ পেলেও কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।ম্যাচ যত এগোতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে কানাডার চাপ। ৬৮ মিনিটে শ্যাফেলবার্গের ক্রস থেকে ওলুওয়াসেইয়ের হেড প্রায় গোললাইন পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু আমির হাদজিয়াহমেতোভিচ গোললাইন থেকে হেড করে বল ফিরিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল ভাগ্য যেন কিছুতেই কানাডার পক্ষে নেই।তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোল আসে। ৭৮ মিনিটে কোনোয়ের দারুণ এগিয়ে যাওয়া আক্রমণ থেকে প্রমিজ ডেভিড অসাধারণ ব্যাকহিল পাস বাড়িয়ে দেন সাইল লারিনকে। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মাথায় শক্তিশালী শটে গোল করেন লারিন। কাটিচের গায়ে লেগে বল জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম ম্যাচে স্বস্তির গোল এনে স্কোরলাইন ১-১ করেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।সমতায় ফেরার পর কানাডা জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৮০ মিনিটে প্রমিজ ডেভিডের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি তৈরি করেন রিচি লারেয়া। বাম দিক থেকে চমৎকার কাটব্যাক পেয়ে সাইল লারিন শট নিতে গেলে আবারও সামনে এসে দাঁড়ান তারিক মুহারেমোভিচ। দুর্দান্ত ব্লকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন বসনিয়ান ডিফেন্ডার।শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার হয়ে জোভো লুকিচ গোল করেন ২১ মিনিটে, আর কানাডার সমতাসূচক গোলটি আসে সাইল লারিনের পা থেকে ৭৮ মিনিটে।ম্যাচজুড়ে কানাডা ছিল বেশি আক্রমণাত্মক, কিন্তু বসনিয়া-
হার্জেগোভিনার সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের দৃঢ়তায় তাদের জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। অন্যদিকে ইউরোপীয় দলটি স্বাগতিকদের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই। তবে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ২১ মিনিটে বসনিয়ার হয়ে গোল করেন জোভো লুকিচ। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত সফরকারীরা থাকে এগিয়ে। তবে বেঞ্চ থেকে নেমে ১২১ সেকেন্ডের মাঝে কানাডাকে সমতায় ফেরান লারিন। ম্যাচও থামে ১-১ গোলের সমতায়।বসনিয়াকে প্রথমার্ধে বেশ চাপেই রেখেছিল কানাডা। বেশ কয়েকবার সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু স্বাগতিকদের হতাশা বাড়ে ২১ মিনিটে। এগিয়ে থাকা সফরকারীদের বিপক্ষে সমতা ফেরে ৭৯ মিনিটে। কাইল ল্যারিন করেন আশা বাঁচিয়ে রাখেন স্বাগতিকদের।ম্যাচের আগে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেছিলেন, বেঞ্চ থেকে নেমে লারিনের কাছ থেকে তিনি প্রভাব চান—আর লারিন সেটাই করে দেখালেন! দারুণ এক ফ্লিকে বক্সের ভেতর থেকে বল জড়ান জালে।টরেন্টো স্টেডিয়ামের নীরবতা শুরু ২১ মিনিটের পর থেকে। জোভো লুকিচের দুর্দান্ত গোলের পর বেশকিছু আক্রমণ শানিয়ে ছিল স্বাগতিক কানাডা। কিন্তু স্কোরলাইনে পরিবর্তন আসেনি।৬৮ শতাংশ বল দখল আর সাতবার গোলে শট নিয়েও হতাশ থাকতে হয়েছে কানাডাকে। বিপরীতে ৮ শটের দুইটি লক্ষ্যে রেখে একটিতেই গোল পেয়েছে বসনিয়া। বিরতির আগে তাই ১-০ গোলে এগিয়েই থাকল সফরকারীরা।আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল, বিশ্বকাপের প্রথম গোল, কানাডার বিপক্ষে প্রথম গোল—জোভো লুকিচের বাড়াবাড়ি উদযাপন হওয়াটা স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। লাল রঙে সাজা টরেন্টো স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ে ফেললেন ২৭ বর্ষী তারকার।কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের ২১ মিনিটের মাথায় ডেডলক ভাঙেন লুকিচ। ডান দিক থেকে নেওয়া কর্নারের কাছে সতীর্থের হালকা ছোঁয়ায় বল পেছনের দিকে যায়। সেখানে মাত্র কয়েক গজ দূরে থাকা জোভো লুকিচ সহজেই হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন।নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার জন্য এর চেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আর কী হতে পারে! ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে তাই ভেসে আসে, ‘What a time to score your first international goal!’ অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি করার জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত মুহূর্ত আর কী হতে পারে!