
বিশেষ প্রতিনিধ : জামায়াতে নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারী) বিকালে পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন ২৭০ আসনে প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাকিদের এখন ভোটের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। দলটি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতায় নির্বাচনে যাচ্ছে না।এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ১১ দলীয় জেটের আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়। এতে বলা হয়, জামায়াত ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেবে। এছাড়া এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি তিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সাত, বাংলাদেশ ডেপেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুই ও নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি আসনে লড়বে। তখন অন্য তিন দলের আসন ঘোষণা করা হয়নি। এতে ছিল ইসলামী আন্দোলনসহ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।বাকি ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কাজ করছেন বলে জানান আতাউর রহমান। তিনি বলেন, এসব আসনে দলের প্রার্থীরা আলাদাভাবে নির্বাচন করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান এ কথাগুলো বলেন। দলের নির্বাচনী আসন সমঝোতা বিষয়ে অবস্থান জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।অনেক টানাপোড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তে টানা বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে। গতকাল রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচনী মোর্চার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ১০ দলের সমঝোতা হলেও এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।এই উদ্যোগে শুরু থেকে যুক্ত থাকা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। দলটির জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসেন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। পরে আজ নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাল ইসলামী আন্দোলন।


